সত্যি বল

  

সত্যি বল

 

কলমে মো: ইউনুস


 

 

এই যে তুমি নিজেকে মনে করো 

 

    বড্ড খুশি আছো!

 

কখনো কি দিনের শেষে দূয়ারের

 

শিকল তুলে "তোমার তুমি" কে

 

জিজ্ঞেস করেছ যেতুমি

 

 কতটা ভালো আছো?

 

হাঁ জানি.....

 

তুমি কখনো কখনো আঙুলে থুতনি রেখে,

 

 চোখের কোণে একরাশ কালো মেঘ নিয়ে,

 

 আর বুকের মাঝে পাহাড়

 

 সমান কষ্ট চাপা দিয়ে প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলে,

 

সবার সামনে মিথ্যে হাঁসো!

 

কখনো বা মাঝরাতে চাঁদ

 

 দেখতে দেখতে চোখের কোণে বেরিয়ে আসে উষ্ণ জল!

 

 আর দু'হাত এর মাঝে অষ্ফুট স্বরে ভেসে আসে -

 

হে খোদা আমি হারিয়েছে

 

 এক সোনার কলোসে মোড়া অমূল্য রত্ন,

 

 আজ যদি ফিরে পেতাম!

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সঙ্গী

 

 মো: ইউনুস

 

 

 

 

কবি গুরুর বাসনা নিয়েবেড়ে উঠেছিলাম,

 

আর কাঁশফুল হয়ে দাঁড়িয়েছীলাম শরতের পর শরৎ।

 

তোমায় পাশে পাব বলে.....

 

কিন্তু সেদিন বিকেলের অনাবৃষ্টি

 

নিয়ে আসলে,

 

আর দুমড়ে মুচড়ে আমায় ডুবিয়ে গেলে....

 

শেষ চেষ্টায় নিজেকে দাঁড় করে খাঁ খাঁ মরুভূমিতে পেলাম!

 

আর মরিচিকায় শেষ স্বপ্ন,

 

হয়তো নিজ টানে বয়ে গিয়ে নীলনদে মিশেছো,

 

 কিংবা

 

নীলকন্ঠ পাখি হয়ে উড়ে গেছো

 

হীরক রাজার দেশে,

 

 অথবা এক অমর আড়ালে আত্নগোপন করেছো....

 

তো কি হয়েছে?

 

আজ এক নতুন সঙ্গী পেয়েছি!

 

মাত্র পাঁচ টাকার মূল্য পেয়েছি তাকে

 

ধপধপে সাদা চামড়া দিয়ে ঢাকা

 

ভীতরে ভালোবাসার খাদ মাখানো।

 

 তাকে নিয়েই জলখাবার,

 

 নৈশ খাবার ও তাকে নিয়েই,

 

 অগভীর রাতে আমাটানে সেনিজেকে জ্বালিয়ে দেয়,

 

তার জ্বলন্ত ডগায় নিজের ব্যর্থ চেহারাটা দেখি।

 

কখনো চোখ জল আসে,

 

 আবার কখনো অর্থহীন হাঁসি.....

 

সত্যি গো আজ এক নতুন সঙ্গী পেয়েছি।।

 

 

 

 

বিদায়ের পুর্বাহ্নে পাঠিত একটি বিশেষ কবিতা

 

বিদায়

 

 

উদাসীন দেহে দাঁড়িয়ে আজ শ্রদ্ধীয়দের সামনে,

 

কিছু ধ্বনি উঠলো ভেসে ক্রন্দনরতা এ প্রানে।

 

যাদের পায়ে পথ চলে এই ফুল বাগানে আসা,

 

হঠাৎ ঋতু জানিয়ে দিলো আপন মনের ভাষা।

 

দিয়েছে যারা ভালোবাসার তরী চিনিয়েছে পথরেখা,

 

আপনমনে আজ নিচ্ছে বিদায় নিভিয়ে মনের শিখা।

 

কোকিল ডাকা সোনার সকালে গেয়েছি যাদের জয়গান,

 

সেই সকালে তাদের দিচ্ছি বিদায় একি খোদার ফরমান!

 

নিম বৃক্ষের ঐ ছায়াতলে জানাব কাদের সালাম,

 

হৃদয় সুরেমধুর ডাকেকে ডাকবে মোদের নাম?

 

তাই তুলি নিয়ে মনের দেয়ালে তোমাদেরই চিত্র আকিঁলাম,

 

ইতিহাসে আজীবন সূর্যের উদয় হবে আর পাখিরা ঝড়াবে উজ্জ্বলতার নাম।

 

সূর্য ঢলে যাওয়া বিকেলের পথচারী হয়ে ঘটে যদি নয়নের মিলন,

 

হাতে হাত রেখেএক গাল হেঁসেললাটে দিও আশীর্বাদের চুম্বন।।

 

 

কলমে কবি ইউনুস

 

 

 

 

নবীন বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাওয়া একটি বিশেষ কবিতা।

 

 

 

নবীন

 

মোহাম্মদ ইউনুস

 

এসো হে নবীন এসো!

 

সকালের কুসুম সূর্যের মত উঁকি দিয়ে!

 

ভরে দাও এই বাগানকে রংধনুর রং দিয়ে।

 

 

 

এসো হে নবীন!

 

বাজিয়ে তুলো জীবনের নব বীণ,

 

শত বাধা বিপদ ফেলে গড় জীবন রঙিন।

 

 

 

এসো হে নবীন!

 

গেয়ে ওঠো পাখি ডাকা বসন্তের সোনার

 

সকালের মত,

 

দিক - দিগন্তে গুঁজে দাও সবুজতোমার আছে সুর যত।

 

 

 

এসো হে নবীন!

 

প্রতিদিন বাড়বে নবীনপ্রবীণ হবে সবাই,

 

আদর্শকে পুজো করে চলবো  মোরা ভাই ভাই।

 

 

 

শুনো হে নবীন!

 

আজকে নবীন তুমি কালকে প্রবীণ এ বলছে ইতিহাস,

 

আমৃত্যু থাকতে নবীন এ পরীক্ষায় করেনি কেউ পা।

 

 

 

এসো হে নবীন!

 

এসো হে সবুজএসো এই আঙিনায়...

 

এই প্রাঙ্গণের প্রতিষ্ঠাতা যিনি তাঁর কি নাম জান ভাই?

 

স্যার সৈয়দ আহমেদ খান তিনি তাঁর মত ব্যক্তিত্ব আর নাই।

 

 

 

এসো হে নবীন এসো!

 

হাতে - হাতনয়নে নয়ন রেখে মনে রাখি মন,

 

দুই কাল হয়ে রবো উভয়ের প্রিয়জন।।

 

 

 

 

 

হৃদয় ধ্বনি

 

ধ্বনি যখন ভেসে আসে

 

প্রেম - প্রীতি নিয়ে,

 

তখন আমি এক দৃষ্টি আকাশ পানে চেয়ে।

 

 

 

আমারও ছিল উজ্জ্বল আলোয় মাখা সোনার সকাল,

 

কত না রং ঝরিয়ে দিত আলতা মাখা বসন্তের বিকেল।

 

 

 

পাখিদের সুরে সুরে কত না গেয়েছি হৃদয়ের গান,

 

বিশ্ব হাত মেখে নিত তালি আর

 

অলঙ্কারে ভরে উঠত দু-কান।

 

 

 

মুক্তমাখা জ্যোৎস্না রাতে খেলেছি কত শব্দের খেলা,

 

তারারা কখন লুকিয়ে গিয়ে

 

গাছে ডাকত শালিক ভোর বেলা।

 

 

 

বৃষ্টি ভেজা আষাঢ়ের সন্ধ্যায়

 

দৌড়েছি কত হয়ে জানা অজানা,

 

অযত্নে ঢাঁকা শরীরের উপর তাঁর

 

তর্জনী দ্বারা হয়েছিল জীবন রচনা।

 

 

 

শব্দে আশ্বাসমনেতে বিশ্বাস,

 

আর ভরসায় ছিল ভর,

 

বিশ্ব শক্তিকে পরাজিত করে

 

মরুভূমিতেও গড়ে তুলেছি ঘর।।

 

 

 

মো: ইউনুস

 

 

 

 

 

চাই

 

           মোহাম্মদ ইউনুস

 

 

 

ভারতবর্ষের নাগরিক আমি

 

ভারতীয় হয়ে বাঁচতে চাই,

 

একশো ত্রিশ কোটি জনতার মাঝে

 

তোমায় বেছে নিতে চাই।

 

 

 

বুকে জমে থাকা কষ্টগুচ্ছ উগড়ে দিয়ে

 

পাঁয়ে পা রেখে সুদীর্ঘ পথ চলতে চাই,

 

একটু অভিমান আর ভালোবাসার ছোঁয়া

 

হীরের মালা রুপে হৃদ - বক্সে ভোরে রাখতে চাই।

 

 

 

সমুদ্রের অগভীর তলায় লুকিয়ে থাকা

 

সার্থক ঝিনুক রুপে চাই,

 

শদাব্দী ধরে পড়ে থাকা

 

বোবা ডায়েরীর ভাষা রুপে চাই।

 

 

 

যেমন নদী তার সৌন্দর্য ধরে রাখতে

 

সুদীর্ঘ দু-কূল চায়রাত্রি শেষের

 

সুপ্রভাত পাখির মধুর ডাক চায়,

 

বছর ধরে প্রতীক্ষামান চাতক মিষ্টি বৃষ্টি চাই।

 

 

 

তেমনি অবসন্ন ও ক্লান্ত চক্ষুদয়

 

তোমার খুশির অশ্রুরুপে চাই,

 

মহাপ্রলয় দিবসে তোমার হাতে হাত চাই।

 

 

 

কণকণে শীত সকালে তোমায়

 

সূর্য রশ্মি রুপে চাই,

 

এ অখ্যাত শিল্পী তোমায়

 

শেষ স্বপ্ন রুপে চাই...

 

 

                                                                                       

 

 

না,অনেক কিছু চাই না।

 

অন্তত চাই তোমার ওষ্ঠের

 

একসুত শুন্যতাকিন্তু

 

চাইনা তোমার ওষ্ঠ জড়ানো।

Comments

Popular posts from this blog

Thought